1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  3. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  4. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  5. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  6. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০৬:২১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ :

মুক্তিযুদ্ধের তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বহিস্কার করা হোক- মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক প্রধান

রিপোর্টার
  • সংবাদ সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০
  • ২ বার দেখা হয়েছে

উত্তম সরকার: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও সহায়তাকারী বিদেশীদের সম্মান জানানো হচ্ছে এজন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সাথে সরকারের কাছে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দাবী জানাচ্ছি-মুক্তিযোদ্ধা নয় তবুও মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় লাভ করেছে এবং যারা একাত্তুরে চিহ্নিত রাজাকার ছিল কিভাবে তারা মুক্তিযোদ্ধা হলো এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। সেই সাথে দাবী করছি মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর শহীদদের সম্মান জানানো হউক। এতে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরো সমৃদ্ধ হবে। উপরের উল্লেখিত কথাগুলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা আজিজল হক প্রধান। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজিজল হক প্রধান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি জানান, ৭১ সালে সে ইন্টার পাশ করা টগবগে তরুণ যুবক। গাইবান্ধা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বে গাইবান্ধা ডাকবাংলায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সামন থেকে তার দর্শন ও কথা শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন । তিনি স্পষ্ট শুনেছেন বঙ্গবন্ধুর কিছু কথা। যার মধ্যে ২টি লাইন তার আজও মনে দাগ কাটে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ওরা অত দূর থেকে আমাদের দরিদ্র জনজীবনের মুক্তি দিতে পারবে না। এদেশের মুক্তির সাধ আমরাই দিব। সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হও। এই কথাটি প্রধানের মনকে উদ্দীপনা জোগায়। শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শোনার জন্য আজিজুল হক প্রধান আওয়ামী লীগ নেতা সদরুল কবির আঙ্গুর, খায়রুল আলম, আলতাব হোসেন, নয়া মিয়া, মজুন হাওলাদারসহ ১৫/২০ জনের একটি দল ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ মঞ্চের পূর্ব দিকে একশ গজের মধ্যে বসে থেকে শেখ মুজিবের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুনেছেন। লাঠি হাতে লক্ষ লক্ষ লোকের জয় বাংলার ধ্বনির সাথে প্রধানও সেদিন কণ্ঠ মিলিয়েছেন। ভাষণ শোনার পর প্রধান ও তার সাথীদের সাথে ট্রেন যোগে পরদিন বিকাল আড়াইটায় গাইবান্ধা ষ্টেশনে পৌঁছান। এরপর যে যার মত বাড়ী ফিরে যায়। প্রধান তার গ্রামের বাড়ী কামারজানীতে পৌঁছান সন্ধ্যার পর। এরপর দিন থেকেই স্বাধীনতার সংগ্রামের নানা স্থানে মিছিল মিটিং চলতে থাকে। মিছিল মিটিং এ প্রধান নিয়মিত অংশ নিতেন। এভাবে চলার এক পর্যায় ২৫ শে মার্চের পাকসেনাদের গণহত্যার সংবাদ কামারজানীতে পৌঁছে।
এর কয়েক দিন পরই কামারজানীতে শালু রাজাকারসহ বেশ কিছু লোক পাকিস্তানের পক্ষে বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে পাকিস্তান রক্ষা করতে হবে ভারত এদেশ আক্রমণ করবে এমন ধরনের কথা বলে গ্রামের তরুণ যুবকদের রাজাকারদের দলে ভিড়ানোর চেষ্টা করে। এই দৃশ্য প্রধান নিজ চক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন। এই ঘটনার ৯ দিন পর প্রধান মুক্তিযুদ্ধে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। ২৩ শে এপ্রিল ভোর বেলা প্রধান বাবা মায়ের কাছ থেকে বিদায় নেয় মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্য। কান্নাভরা কণ্ঠে বাবা ছেলে প্রধানকে বিদায় দেয়। এ সময় কয়েক ফোটা চোখের জল প্রধানের ডান কানের পাশ বেয়ে গলায় স্পর্শ করে। এ বর্ণনা দেয়ার সময় প্রধানের দুই চোখ কান্না জলে ভরে ওঠে। প্রধান বাবার পাট বিক্রির কিছু টাকা পকেটে নিয়ে প্যান্ট শার্ট পড়ে ভারতের উদ্দেশ্যে ঘর ছেড়ে সোজা কামারজানী নৌকা ঘাটে চলে আসে।
কামারজানী নৌকা ঘাটে এসে পরিচিত আরও কয়েকজনের দেখা পান যারা মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্য নৌকা ঘাটে অপেক্ষা করছিল। এদের যে ক’জনের নাম প্রধানের এই মুহূর্তে স্মরণ আছে তারা হলেন, আব্দুল করিম, এসকে মজিদ মুকুল, খয়বর, আফজালসহ ১০/১৫ জন যুবক। এদের মধ্যে ৪ জন নদীর ওপার গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়ে ফিরে যায়। ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানসহ অন্যরা নৌকায় ওঠে। নৌকায় ব্রহ্মপুত্র নদী পার হয়ে পায়ে হেঁটে বাঘার চর পৌঁছান। এরপর বিশ্রাম নিয়ে পায়ে হেঁটে বকবান্ধা বর্ডার পৌঁছান। এখানে পৌঁছামাত্র ভারতীয় বি.এস.এফ তাদের ঘিরে ফেলেন এবং পরে তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যান। বিএসএফ ক্যাম্পে ১০/১২ দিন থাকার পর ১৬ই মে সকালে ঐ ক্যাম্পে বাংলাদেশের ৫জন এমপি আসেন এবং এদের মধ্যে ঈশ্বরদীর এমপি দেলু, গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের এমপি এ্যাড. শামসুল হককে প্রধানের পূর্ব পরিচিত। পরে প্রধান সকলের পক্ষে তাদের সাথে বিস্তারিত খুলে বললে তারা প্রধানসহ অন্যান্যদের মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেন দেন। পরে তিনি বিএসএফ ক্যাম্পের পার্শ্বে একটি ট্রেনিং সেন্টারে ভারতীয় বাঙালি সেনা অফিসার এসকে দাসের কাছে ১১ দিন অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। এরপর এখান থেকে তাকে হায়ার ট্রেনিং এর জন্য ভারতের তুরাতে পাঠানো হয়। তুরাতে ৩১ দিন প্রশিক্ষণ শেষে তুরার জঙ্গল প্যারেট শেষ করেন। এরপর ভারতীয় এক মেজরের নির্দেশনায় ভারতীয় সেনা সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেকের হাতে ২ কেজি চালের একটি করে প্যাকেট হাতে দেন সেই সাথে একটি বড় বাক্সে অস্ত্র গোলাবারুদ ভরে তাদেরকে মানকার চর ভারতীয় মেজর বলোংগরি শিং এর কাছে সোপর্দ করে। সেই মেজর আবার বাংলাদেশের সেনা সদস্য (হাবিলদার) মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়ার কাছে পাঠান। পরে তোতা মিয়া সবার হাতে অস্ত্র বন্টন করেন। মানকার চর এলাকা থেকেই শুরু হয় প্রধানের প্রথম যুদ্ধে যাবার দিনক্ষণ। এর আগেই প্রধান অস্ত্র প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন ১৩৭ এলএমজি লাইট মেশিনগান, গ্রেনেড, মর্টারশেল, বোমস্পোলোজার বিষয়ে। প্রধান ১১নং সেক্টরের অধীনে কোম্পানী কমান্ডার হাবিলদার তোতার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছেন। তার যুদ্ধ স্থান গুলো হচ্ছে কোদালকাটি, কামালেরপাড়া যুদ্ধ, সারিয়াকান্দির যুদ্ধসহ কুড়িগ্রামের ধলাগাছি ঘুমুমারী আরও অন্যান্য স্থানে।
আজিজুল হক প্রধানের স্মৃতিময় ২টি যুদ্ধ স্থান হচ্ছে, কোদালকাটি ও বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দির যুদ্ধ। বগুড়ার সারিয়াকান্দির যুদ্ধ হচ্ছে প্রধানের প্রথম যুদ্ধ। কোম্পানী কমান্ডার তোতার নেতৃত্বে সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা গাইবান্ধার হীরু, আব্দুস সামাদ, সাঘাটার আনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, গিদারীর জহুরুল, দিনাজপুর রংপুরের কয়েকজন মিলে ৩০ জনের একটি মুক্তিযোদ্ধা দল সারিয়াকান্দি থেকে নিয়ে আসা নৌকার মাঝি আব্দুল গফুর এর নৌকায় ওঠেন। সাথে ২ কেজি চাল আর অস্ত্র গোলাবারুদ। কমান্ডার তোতার নির্দেশে মানকারচর থেকে নৌকা ছেড়ে দিলো। উদ্দেশ্য বগুড়া সারিয়াকান্দি পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমণ। বিকালে ছেড়ে আসা নৌকা বাঙালি নদী পার হয়ে সন্ধ্যার আগেই সারিয়াকান্দি শাহাপাড়া গ্রামের মনছুর দেওয়ানীর বাড়ীর পার্শ্বে পৌছে। এখানে জঙ্গলে আশ্রয় নেয় মুত্তিযোদ্ধারা। এই খবর ঐ এলাকায় এক রাজাকার পাকসেনা ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়। পরে পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘিরে ফেলে চার দিক থেকে। আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাকসেনারা অবিরাম বৃষ্টির মত গুলিবর্ষণ শুরু করে। বাঁশঝাড়সহ জঙ্গলের ডালপালা গুলির আঘাতের শব্দে কানতালি লাগার মত অবস্থা। কোম্পানী কমান্ডার এর তাৎক্ষণিক নির্দেশ কেউ ফায়ার দেবে না আমি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। থেকে থেকে সারা রাত পাকসেনারা গুলিবর্ষণ করলো। মুক্তিযোদ্ধারা জঙ্গলের ডোবায় শিয়ালের গর্তে গাছের শিকড়ের নিচু স্থানে চুপচাপ থাকে। এরপর ভোরের আলো ফুটলো মুক্তিযোদ্ধারা এক রকম অবস্থায় আছে। সকাল গড়িয়ে দুপুর নাগাদ আবার চার পাশ থেকে এই স্থানকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ। তখনো মুক্তিযোদ্ধারা ফায়ার দেয়নি। এক সময় পাকসেনারা গুলিবর্ষণ বন্ধ করে। তখন বিকাল গড়িয়ে পড়ছে। এই ফাঁকে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুধা নিবারণের জন্য সাথে আনা চাউল চিবিয়ে খেয়ে পানি তেষ্টায় পড়ে। পানি পানের ঘটনাটি বলতে গিয়ে প্রধান কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, পানির পিপাসা মেটাতে মুক্তিযোদ্ধারা জঙ্গলের এক পার্শ্বে মানুষের তিনটি কাঁচা পায়খানার পানি ডোবায় গড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধময় পানি পান করেই আবারও জঙ্গলে লুকিয়ে পড়েন। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তোতার নির্দেশে নৌকার মাঝি গফুর সবার চোখের আড়ালে পাকসেনাদের রেকি করেন। জানতে পারেন বাড়তি পাকসেনাদের অনেকেই চলে গেছেন। আছে অল্প সংখ্যক। এই সুযোগে মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধামত পজেশন নিয়ে পাকসেনা ক্যাম্প আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের হঠাৎ এক যোগে গুলিবর্ষণে বেশকিছু পাকসেনা রাজাকার মারা পড়ে। বাকীরা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যায়। পাকবাহিনীর গুলিতে নৌকার মাঝি গফুর শহীদ হন। এই যুদ্ধের সাহসিকতার ফসল হিসাবে ১১নং সেক্টরের উর্দ্ধতন কমান্ডের নির্দেশে প্রধানসহ ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে কামালপুর, দালু নামক স্থানের যুদ্ধে অংশ নেয়। এই যুদ্ধে বহু সংখ্যক পাকসেনা মারা পড়ে। সেই সাথে যুদ্ধে ভারতীয় সেনাসহ বেশকিছু মুক্তিযোদ্ধা নিহত ও আহত হয় কামালপুর যুদ্ধে সেক্টর কমান্ড কর্নেল তাহের আহত হন। এরপর কামালপুর যুদ্ধ শেষ করে প্রধানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্র ফেলাইট লেপ্টেনেন্ট ও (সাব সেক্টর কমান্ডার) হামিদুল্লাহর নিকট জমা দেন। জমা দেয়ার ৩ দিন পর হামিদুল্লাহর নির্দেশে টু এমএফ কোম্পানী সুবেদার আলতাব আলী বীর উত্তম বীর প্রতীক এর নিকট প্রধানসহ আরও অন্যান্য কোম্পানীর মুক্তিযোদ্ধাকে পাঠান। এর আগে প্রধানসহ মুক্তিযোদ্ধারা আরও শক্তিশালী অস্ত্র হামিদুল্লাহর কাছ থেকে হাতে পান এরপর তারা কোদালকাটির যুদ্ধের জন্য আবতাব কোম্পানীতে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এই যুদ্ধটি ছিল ভয়াবহ বিশাল যুদ্ধ। আজিজুল হক প্রধান জানান, আবতাব সুবেদার বেশ কয়েকটি কোম্পানী কমান্ডারকে নির্দেশনা দেন যার যার মুক্তিযোদ্ধার দল নিয়ে কে কোথায় কোন অবস্থানে ডিফেন্সে পজেশন নিবে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রধান ছিলেন ডিফেন্সের একেবারে সামনের প্রথম সারিতে। কোদালকাটি স্থানটি ছিল কুড়িগ্রাম জেলার মধ্যে চারপাশ নদী ঘেরা এক বিশেষ স্থান যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা শক্ত অবস্থান নিয়ে পাকসেনাদের আক্রমণের জবাব দিতো। এই স্থানে কয়েক দফা যুদ্ধ হয়। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে বহুসংখ্যক পাকসেনারা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমন চালায়। সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টিরমত গুলি ছুড়তে থাকে। এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের পিছন থেকে আর্টিলারী সেলসহ সব ধরনের সাপোর্ট দিতে থাকে মিত্রবাহিনী। প্রধান জানান, ডিফেন্সে পজেশনে যাওয়ার আগে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র গোলাবারুদ ভারতীয় সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে দিয়ে দেয়। প্রধান জানান, অস্ত্র গুলি গ্রহণকালে এক ভারতীয় সেনা মুক্তিযোদ্ধাদের বলেছেন, তোম লোক জরুর জিতে গা, পাকিস্তানী সেনাকো গুলি খতম হোগা তোমারা গুলি চলতে রয়ে গা। এই কথা তাৎক্ষণিক মানে বুঝতে না পারলেও পরে বুঝেছেন ঠিকই অন্য দিকে আবতাব সুবেদারের রণকৌশলও প্রধানকে অবাক করেছে। যদি পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পারে তাহলে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত পিছু হটে নদী পার হয়ে নিরাপদে যাওয়ার জন্য শত শত কলার গাছ কেটে নদীর পাড়ে তৈরী রাখার ব্যবস্থা করেছেন। এদিকে গুলি পাল্টা গুলি চলতেই থাকে। জীবন যুদ্ধ সন্ধ্যা থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে একটানা চলে পরদিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত। রাত ফুরিয়ে দিনের আলোতে গুলির জবাবের এক পর্যায় প্রধান লক্ষ্য করেন পাকসেনারা ইয়া আলি ধ্বনি দিয়ে দাঁড়িয়ে গুলি করতে করতে সামনে আসার চেষ্টা করছে পরক্ষণেই মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে ছিট্কে পড়ছে। প্রধানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা মাঝে মাঝে জয় বাংলার ধ্বনি দিয়ে শত্রু নিধনে গুলিবেগ বাড়িয়ে দেয়। এক সময় পাকসেনাদের গুলির জবাব থেকে থেকে দিচ্ছে আর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের দ্বিগুণ গুলি ছুড়ছে। এক পর্যায় পাকস্তানী বিমান হামলা শুরু হলো। মুক্তিযোদ্ধারাও রকেট ল্যান্সার ছুড়ে জবাব দিতে লাগলো। সেই সাথে অনবরত গুলি পাল্টা গুলি। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের ডিফেন্সের পিছন থেকে আর্টলারী গোলা নিক্ষেপ করছে ভারতীয় মিত্রবাহিনী। এই যুদ্ধে গাইবান্ধা বাদিয়াখালীর আলতাব, ছামাদসহ দিনাজপুর ময়মনসিংহের ২০/২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পাকবাহিনীও মারা পরে কম করেও হলেও এক হাজার সৈন্য। বিকাল ৫টা নাগাদ পাকস্তানী বাহিনীর গুলিবর্ষণ থেমে যায়। মুক্তি বাহিনীরা ডিফেন্সে থেকে মাঝে মধ্যে গুলি ছুড়লেও শত্রু পক্ষের কোন জবাব নেই। এক সময় যুদ্ধ থেমে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা বিজয় উল্লসিত কণ্ঠে জয় বাংলার ধ্বনি উচ্চরিত করতে থাকে। এই যুদ্ধে বিজয় হবার পরে বেশকিছু দিন তারা সুন্দরগঞ্জের ধর্মপুরে অবস্থান করেন। এ সময় রেকি করে দেখেন গাইবান্ধায় কোন পাকসেনা নেই। এরপর ৭ ডিসেম্বর তারা ধর্মপুরের কাচা রাস্তা হেঁটে গাইবান্ধার তৎকালীন ভি.এইড বর্তমানে জেলা কৃষি ইন্সটিটিউট এ অবস্থান করেন। এখানে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন আব্দুল আজিজ এর কাছে আজিজুল হক প্রধান তার মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত চাইনীজ এল এম জি ১৩৭ জমা দেন। আজিজুল হক প্রধানের এফএফ নং-৪১০৯ ভারতীয় কল্যাণ ট্রাস্ট নং-৪১৫৭১, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৭০১০১২৩ গেজেট নং-৪০, জাতীয় তালিকা ৭৩ বর্তমানে সরকারের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন।
প্রধান অভিযোগ করে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যাবার কারণে তার বাড়ী ঘর রাজাকাররা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। মা বাবাকে নির্যাতন করেছে। এ সময় থেকে প্রধানের ছোট ভাই আবুল কাশেম নিরুদ্দেশ হয়। সে বেঁচে আছে না মরে গেছে, না কি রাজাকাররা তাকে মেরে ফেলেছে, আজও জানা যায়নি। এ সময় কান্নাজরা কণ্ঠে প্রধান বলেন ব্রহ্মপুত্র নদীর পশ্চিম পাশে কামারজানী তার জানামতে সে ছাড়া আর কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়নি। অথচ ঐ এলাকার পিচ কমিটির সদস্য কারী আব্দুর রহিম নামে পরিচিত স্বাধীনতা বিরোধী মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের সম্মান পাচ্ছেন। আমি এর বিরোধীতা করে তদন্তের মাধ্যমে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বহিস্কারের দাবী জানাই।
কোদালকাটির যুদ্ধে প্রধানের সাথে যারা যুদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে যাদের নাম এই মুহূর্তে স্মরণ আছে তারা হলেন আব্দুল করিম, মফিজল হক, আব্দুল কুদ্দুস, রফিকুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, খয়বর রহমান, মোহাম্মদ আলী, নুরুজ্জামান, মকর, আলতাব হোসেন (শহীদ), আব্দুস ছামাদ (শহীদ), এসকে মজিদ মুকুল, জহুরুল (এ্যাডভাইজার) এরা সকলেই গাইবান্ধা জেলার। কুষ্টিয়ার সেনা সদস্য আব্দুল মজিদ, নোয়াখালীর রেজাউল, সেনা সদস্য আব্দুল মান্নান, ঢাকার সুবেদার এনামুল, সিলেটের সুবেদার করম আলী, ময়মনসিংহের আবুল হোসেন।
প্রধান বলেন কোদালকাটি যুদ্ধ শেষে ভারতীয় উত্তরাঞ্চলের একজন (যার নাম এই মুহূর্তে স্মরণ নেই) প্রধানের হাতে যুদ্ধের স্বীকৃতি স্বরূপ একটি কাগজ দেন যাতে প্রধানের নামসহ তার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও যুদ্ধ শুরুর পূর্বে আর্টেলারী গোলা নিক্ষেপের কৌশল বোঝানোর একটি ছবি। যা কোদালকাটি যুদ্ধের সময় বিমান থেকে তোলা ছবি ঐ এলাকা থেকে প্রধান সংগ্রহ করে। যা আজও তার কাছে গচ্ছিত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

এই ধরনের আরো খবর

প্রকৌশল সহযোগীতায়ঃ মোঃ বেলাল হোসেন