1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
স্মৃতি অমলিন ঈদের আনন্দ-বিষাদ - আমাদের বাংলার সংবাদ




স্মৃতি অমলিন ঈদের আনন্দ-বিষাদ

  • সংবাদ সময় : Saturday, 30 May, 2020
  • ৫০ বার দেখা হয়েছে

মিলন কান্তি দাস :

আমার আস্থা ও নির্ভরতার মানুষ ঝালকাঠি-২ আপসের সাংসদ জুলফিকার আলী ভুট্টো ভাইয়ের সাথে আমার নিজের একটা স্মৃতি আপনাদের শেয়ার করবো। কোন এক রমজান মাসের একদম শেষ দিকে (১৯৯১-১৯৯৬) ভুট্টো ভাই তখন কিছুটা আর্থিক সমস্যার মধ্যে ছিলেন।

 

একদিন ভুট্টো ভাই আর আমি উত্তরা জসিমউদ্দিন রোডের বাসা থেকে বেবিট্যাক্সি (সিএনজি) নিয়ে কাওরান বাজার আসলাম। সেখানে এসে নলছিটি,ঝালকাঠির অনেক লোকজন ভুট্টো ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম।

 

ভুট্টো ভাইয়ের সাথে একটা ব্যাংকের ভিতরে ঢুকে আমরা সবাই বসিয়ে গ্লাস দিয়ে ঘেরা ম্যানেজারের রুমে ঢুকলেন। আমরা বাহির থেকে দেখলে ম্যানেজার সাহেব খুব আন্তরিকতার সাথে ভুট্টো ভাইকে বসালেন। কি কথা হচ্ছিল আমারা বুঝতে পারছিলাম না। ঘন্টা পর পরে রুম থেকে বের হয়ে কাউকে ৫শ কাউকে হাজার টাকা দিয়ে বিদায় দিলেন।

 

এরপর বললেন একটা বেবি ঠিক কর সাইন্সল্যাব যাবো পাঞ্জাবি কিনতে হবে। বেবি করে সাইন্সল্যাব পৌছে পাঞ্জাবি কিনতে শুরু করলেন। সব দোকানেই সব টাকা বের করে বিল দিলেন। এক দোকানে ঢুকে বললেন তুই একটা পাঞ্জাবি পছন্দ কর।

 

আমি বললাম কার জন্য? বলল তোর দরকার আছে কার জন্য, তোকে বলছি একটা পছন্দ কর। আমি একটা পাঞ্জাবি পছন্দ করে কিনলাম। ভুট্টো ভাই বললো এটাতে চিহ্ন দিয়ে রাখ। এরপর আরো কটা কিনলেন।

 

হঠাৎ দেখি পাশ পকেট,পেছন পকেট হাতরে বেড়াচ্ছেন। জানতে চাইলাম কি হয়েছে? ভুট্টো ভাইয়ের বড়ো বড়ো লাল চোখ দুটো ফেটে মনে জলের গঙ্গা বয়ে যাবে। বলল এই বিপদের দিনে টাকা গুলো নিয়ে গেলোরে।

 

আমার চোখের কোন দিয়েও নিজের অজান্তেই জল গড়িয়ে গেলো। বললাম সব দোকানেই টাকা গুলো বের করার জন্যই ওরা সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে। ভুট্টো ভাই বললো সব দোষ ইন্ডিয়ান প্যান্টের এগুলোর পকেট ছোট তাই পকেটমার সহজে নিতে পেরেছে।

 

তাসকিন আর তোর ভাবির জন্য কিছুই কেনা হলো না। বললাম এখন কি করবেন ? চল আবার দোস্তের কাছেই যাই। আবার কাওরান বাজার সেই ব্যাংকে ঢুকলাম।

 

ভুট্টো ভাই হয়তো তার টাকা পকেটমার হওয়ার কথা বোঝাতে চাইছিল। কিন্তু ভদ্রলোক কিছুই শুনতে চাইছিলেন না। বাইরে বসে কষ্টে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। যে মানুষ লাখ টাকা ঘন্টার মধ্যে গরিব মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করেননি সেই মানুষটি সামান্য কিছু টাকার জন্য কতো ভাবেই না অনুরোধ করে যাচ্ছেন। অবশেষে ভদ্রলোকের মন গলেছে। আবার কিছু টাকা দিলেন আমি দেখলাম টাকাটা নেওয়ার সময় ভুট্টো ভাই মাথা তুলতে পারছিলেন না।

 

যে মানুষটিকে দেখলে সাহায্যের জন্য দীর্ঘ লাইন পড়ে যেতো সে আজ টাকার জন্য অবনত মস্তকে। এরপরও বন্ধুর (জানি না বন্ধু কি না) হাত মিলিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। বললেন পুরো না হলেও কিছু তো হয়েছে। ব্যাংক থেকে বের হয়ে একটা মুদি দোকানে গিয়ে সেমাই,চিনি,দুধ,কিসমিস সহ অনেক কিছুই কিনলেন। বললাম ভাবি,তাসকিনের জন্য কিছু কিনবেন না ? আমার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বললেন যে টাকা আছে তাতে তাসকিনের জামা হলেও তোর ভাবির জন্য কিছুই কেনা যাবে না। চল বাসায় যাবো বেবি ঠিক কর।

 

বেবি ঠিক করে উঠলাম। বেবিটা ফার্মগেট পুলিশ ফাঁড়ির ওখানে পৌছালে বললো তুই কি উত্তরা যাবি না মিরপুরে? আমি বললাম মিরপুরে যাবো। বেবিট্যাক্সি থামিয়ে বললেন দাগ দেওয়া পাঞ্জাবিটা বের কর। আমি বের করে তার হাতে দিলাম। সে বললো এটা পড়ে ঈদের দিন উত্তরা আসবি। আমি নামাজ পড়বো তুই দাড়িয়ে দেখবি তারপর একসাথে সেমাই খাবো। আমি চলে গেলাম আমার বাসায়। ঈদের দিন আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছিল তাই উত্তরা পৌঁছাতে এগারোটা বেজে গেছিল। যার বসার ঘরে লোক বসার জায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে থাকতো সেই বাসায় শুধু ভুট্টো ভাই আর পিরু ভাই বসে আছেন। আমি গিয়ে ছালাম ও শুভেচ্ছা জানালাম। ভুট্টো ভাইয়ের মেয়ে তাসকিন আমাকে সিভিট মিলন বলে ডাকতো। দেখলাম ও একটা পুরোনো জামা কাপড় পরে আছে। বললাম ঈদের নতুন জামা কোথায়?

 

ও বললো আমাদের ঈদ নেই। ভুট্টো ভাই বললো জামা এনেছি ওর মা পড়ায়নি। তাসকিনকে বললাম আমাকে নতুন জামা দেখাবে না। ও ছুটে গিয়ে নতুন জামা নিয়ে এলো। খুব সুন্দর একটা জামা ভুট্টো ভাই বললেন পড়িয়ে দে। অনেক বুঝিয়ে পড়িয়ে দিলাম। আমাদের ছালাম করে ঘরের ভেতর চলে গেলো। কিছুক্ষণ পরে দেখি আবার পুরোনো জামা পড়া। কেন জামা পাল্টেছে জানতে চাইলে বললো মা বলেছে এবার আমাদের ঈদ নেই। কিছু সময় পর ভাবি আমাদের ডাকলেন খাবার খেতে। তিনজনে কিছু খেয়ে নিলাম।

 

আমি চলে আসবো কিন্তু ভুট্টো ভাই বললেন এক বাসায় যাবেন তার সাথে যেতে হবে। বাসা থেকে বের হয়ে আমরা গেলাম জাতীয় পার্টি থেকে নমিনেশন প্রত্যাশী এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে (যদিও এখন তিনি অন্য একটি দলের জাতীয় সংসদ সদস্য)। মনে আছে বিশাল ডাইনিং টেবিলে খাবার ভরপুর। ভুট্টো ভাই খেতে এবং খাওয়াতে খুব পছন্দ করতেন। আয়েশ করে খেলেন আমাকেও বেশি বেশি খাওয়ার জন্য বললেন। আমার খুব লজ্জা করছিল এ ধরনের খাবার সব সময় তার বাসায় খেয়েছি।

 

আজ অন্যের বাসায় এনে সে সাধ পুরণ করছেন। খাওয়ার পর বেশ খানিকটা সময় গল্প করলাম। ভুট্টো ভাইকে আলাদা একটা রুমে নিয়ে গেলেন। পরে ওনাদের গাড়িতে করে রওয়ানা দিলাম। ভুট্টো ভাইয়ের মুখে কিছুটা প্রশান্তির রেখা। এবার মনে হয় রাগ ভাঙাতে পারবো বলেই হেসে ফেললেন।

 

পথে আমাকে নামিয়ে দেওয়ার সময় দুটো পাঁচ শ টাকার নোট হাতে গুঁজে দিয়ে বললেন এটা রাখ। আমি বললাম আমর দরকার নেই এখন আপনি রাখেন। বললেন আপাতত সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

 

সেদিনের পাঞ্জাবি কেনা আর সেই ঈদের আনন্দ বিষাদের স্মৃতি আজও আমার হৃদয়ের গভীরে অম্লান হয়ে আছে। এখনো যত্নে সাথে রেখেছি দিয়েছি সেই ভুট্টো ভাইয়ের দেওয়া স্মৃতিবিজড়িত পাঞ্জাবিটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ