1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
লাভবান হওয়ায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ইউপি সদস্যসহ অনেকেই আশ্রায়ণ প্রকল্প নিতে ঝুঁকে পড়ছে ॥ বসবাসের পূর্বেই নদী ভাঙ্গনের কবলে ! - আমাদের বাংলার সংবাদ




লাভবান হওয়ায় গাইবান্ধার চরাঞ্চলে ইউপি সদস্যসহ অনেকেই আশ্রায়ণ প্রকল্প নিতে ঝুঁকে পড়ছে ॥ বসবাসের পূর্বেই নদী ভাঙ্গনের কবলে !

  • সংবাদ সময় : Wednesday, 1 July, 2020
  • ৩৩৫ বার দেখা হয়েছে

আবু তাহের ঃ গাইবান্ধার চরাঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন ভাবে আশ্রায়ন প্রকল্পে মাটি কাটা, ঘর বিতরনে সুবিধাভোগিদের থেকে গোপনে অর্থ আদায় ও নিজেদের স্বজনদের নামে-বেনামে ঘর নিয়ে কয়েক লাখ টাকা আয় করার সুযোগে ওই দিকে ঝুঁকে পড়ছে বেশি। নদী ভাঙনের চরগুলিতে নতুন করে ২টি আশ্র্রায়ন প্রকল্পের কাজ চলছে। গতবছরের নির্মাণ হওয়া চেঙ্গালিয়া সিপি ও উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পটির ব্যারাক নদী ভাঙনের কবলে এবং দক্ষিন দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে।

জানা যায়, গত ২০১৭-২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে হলদিয়া ইউনিয়নে আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে চর চেঙ্গালিয়া(সিপি) ও উত্তর এবং দক্ষিন দিঘলকান্দি চরে তিনটি আশ্রায়ণ কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে।

 

অভিযোগ আছে যাদের ওই চরেই বড় বড় টিনের ঘর জমিজমা ও গরু ছাগল রয়েছে তারা টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আতাত করে গোপনে ব্যারাক ঘর দলিলের পুর্বেই দখলে নিয়েছে। প্রকল্প চেয়ারম্যানরা তাদের নিজেদের স্বচ্ছল আতœীয় স্বজনের নামে ব্যারাকের ঘরগুলি দিয়েছে। ওই আশ্রায়নে কাজ করে লাভবান হওয়ায় ওই তিন চরে আবারও কয়েকটি প্রকল্পের চাহিদা দিয়েছে পুর্বের দু প্রকল্পের ইউপি সদস্যসহ ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি।

 

 

উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র নামে ২০১৮ ইং সালে ২৭টি ব্যারাকঘর ঘর নির্মাণ করা হয়, (প্রতিটি ব্যারাকঘরে ৫ টি করে পরিবার বসবাস করতে পারবে) ঘরগুলি নিমার্ণের পরেই তালিকা তৈরি করে জমা পুর্বেই ওই এলাকার প্রভাবশালীরা প্রকল্প সভাপতি/ সম্পাদকের যোগসাজসে তাদের লোকজন দিয়ে সকল ঘর দখল করে নিয়েছে। আশ্রায়নের ঘর নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কেহ সমাধান করেনি। বিধি মোতাবেক প্রতিটি ব্যারাকের ঘরগুলি দলিল সম্পাদন হবে, তারপরে যারা তালিকাভুক্তহবে তারা ভোগ দখল করবেন। অদ্যবধি বিধির কোন শর্ত পূরণ করা হয়নি। বর্তমানে ঘরগুলি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ৭টি ব্যারাকঘর জায়গা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে((৩৫ পরিবারের বসতভিটা)। ভাঙ্গনের কবলে পড়া ব্যারাক ঘরের টিন দরজাসহ সকল কিছু একটি প্রভাবশালী মহল তাদের হেফাজতে নিয়ে আতœসাতের পায়তারা করছে। কিছু মালামাল এক জায়গায় গচ্ছিত রেখে বেশিরভাগ টিন দরজা ইট এঙ্গেল জানালা সরিয়ে রেখেছে। এতে করে সরকারের আশু পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে।

 

নদী ভাঙনের শিকার হবে ওইসব চরে আশ্রায়ন প্রকল্পের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন,ওই সব অস্থায়ী চরে দায়িত্ববানদের নিয়ে গিয়ে নানান কৌশলে সব কিছু পাশ করে নিয়েছে। এমনকি প্রকল্প করছে এক জায়গায় (জমির কাগজপত্র এক জায়গায়)আবার দেখানো হয়েছে অন্য জায়গায়।

 

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মিঠুন কুন্ড জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পে সার্ভেয়ারের স্বাক্ষর দেখার পর তিনি মাটির হিসাব করে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। নদী ভাঙনের কথা বললে তিনি বলেন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবোনা।

 

নতুন করে এবছর বর্তমান সময়ে হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি চরে ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান মোল্লা প্রকল্প চেয়ারম্যান হয়ে এই বানের পানির মধ্যেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে মাটি কাটার কাজ করছে। শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার নিয়ম থাকলেও প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে সরকারের কোটি টাকা লুটপাট করছে।

 

 

ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে মাটি কাটার কাজ করলেও শ্রমিকের ভুয়া মাষ্টার রোল জমা দিয়ে ডিও উত্তোলন করে সেই ডিও কালো বাজারে বিক্রি করে এক প্রকল্প দিয়েই নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করছে। যে পরিমান বরাদ্ধ তার তিনভাগের একভাগ টাকা দিয়েই সব কাজ সমাধান করে বাকি ডিওগুলি তাদের লাভে থাকছে।

 

স্থানীয় শ্রমিকরা কাজ না করতে পেরে কষ্টে থাকলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববানরা ভুয়া মাষ্টার রোলের এসব অনিয়ম ও ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

তারা আরো বলেন ড্রেজার দিয়ে এক হাজার মাটি বা বালি কাটতে লাগছে ১ হাজার টাকা। অথচ শ্রমিক দিয়ে ১ হাজার মাটি কাটার বরাদ্ধ রয়েছে ৮-৯ হাজার টাকা বা সম পরিমানের গম /চাল। এক হাজার মাটিতে প্রকল্প চেয়ারম্যানের লাভ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। প্রতিটি প্রকল্পে কম পক্ষে মাটি বা বালি কাটতে হয় ৭ থেকে ১০ লাখ।

 

 

প্রকল্প সভাপতি বলেন, শ্রমিকের দিয়ে কাজ করলেতো লাভ হবেনা। শ্রমিকের পরিবর্তে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারনেই সবাই দুই টাকার মুখ দেখি। তিনি অকপটে ভুয়া শ্রমিকের নামের মাষ্টার রোলের কথা স্বীকার করেন।

 

 

প্রতিটি প্রকল্প স্থান যে কোন মুহুর্তে নদী ভাঙনের কবলে পড়বে বলে অনেকেই জানিয়েছে।

 

অনেকেই অভিযোগ করেন, সাঘাটা উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) প্রায়ই বিভিন্ন স্থানের ড্রেজার মেশিন আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ সেই অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আশ্রায়ন প্রকল্পের নামে সরকারের কোটি টাকা লুটপাট করছে। তারা বলেন একই এলাকায় একই ঘটনায় একই অপরাধের দুই আইন প্রয়োগ হচ্ছে। ভুক্তভোগি শ্রমিকরা এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য সাঘাটা উপজেলার এসময়ের সবচেয়ে সৎ পরিশ্রমী ন্যায় বিচারের বাহক এসিল্যান্ড শাকিল আহম্মেদ এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যক্তি জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্প সাবমিট করতেই বিভিন্ন দপ্তরে তাদের প্রতি প্রকল্পে ২ থেকে ৩ লাখ টাকার বেশী টাকা খরচ হয়েছে। আবার কমিশনতো আছেই। কাজ শেষেও সন্তুষ্ট করতে হয় অনেককেই। তার পরেও প্রতিটি প্রকল্পে খরচ বাদে আয় হয় ৩০-৪০ লাখ টাকা।

 

 

চলবে…

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ