1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নে ২৩ টি আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প : অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে ! (পর্ব-১) - আমাদের বাংলার সংবাদ




সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নে ২৩ টি আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প : অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করায় প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে ! (পর্ব-১)

  • সংবাদ সময় : Friday, 3 July, 2020
  • ৩০৪ বার দেখা হয়েছে

 

আবু তাহের ঃ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। গত এক যুগের ব্যবধানে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলাধীন ৭নং হলদিযা ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি, দক্ষিন দিঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি ও গাড়ামারা সিপি ও কানাইপাড়া গ্রামে কমপক্ষে ২৩ টি আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাঝে নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ৫টি প্রকল্পের মাটি কাটা স্থান ও নির্মিত ঘর। গত বছর /চলতি বছরে ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডল পাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র। এছাড়া দক্ষিন দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম ও চেঙ্গানিয়া গাড়ামারা মন্ডল পাড়া গুচ্ছগ্রাম ভাঙ্গনের মুখে পতিত হয়েছে।

 

এলাকার ভূমিহীনদের ও গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থায় সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিচালিত হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপরিকল্পিতভাবে নতুন জেগে উঠা চরে আশ্রায়ন ও গুচ্ছ গ্রামগুলি নির্মাণ করায় প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এতে প্রকল্প কমিটির লোকজন আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকারের কোটি কোটি টাকা নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে। একাধিক প্রকল্প প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি টাকা অপচয়ে অপরিকল্পিতভাবে এসব আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা।

 

 

সুবিধাবঞ্চিতরা অভিযোগ করেন, সরকার ভূমিহীন ও দুস্থ এবং গৃহহীনদের জন্য আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন করলেও প্রতিটি প্রকল্পের ঘরে বসবাস করছে প্রকল্প সভাপতি বা জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের লোক আর বেশিরভাগই তাদের আতœীয় স্বজন ও ওই এলাকার প্রভাবশালী ধনী লোকজন।

 

অভিযোগ রয়েছে, একই ব্যক্তি একাধিকবার একাধিক প্রকল্প থেকে ঘর সুবিধা নিয়েছে।

 

প্রকল্পগুলি হলো (১) উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ১৩৫ পরিবারের বসতভিটা যার ৩৫ পরিবারের ৭ টি ব্যারাকঘর নির্মাণের বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে (ওই সব ঘরের জায়গা ও ঘর সুবিধাভোগিদেরমাঝে দলিল সম্পাদনের পূবেই নদী ভাঙ্গনের শিকার) ভাঙ্গনকৃত ঘরের টিন এঙ্গেল দরজা-জানালা ইট খুলে নিয়ে সেগুলো হামিদ মন্ডল নামে এক ব্যাক্তি আতœসাতের চেষ্টা করছে। (২) উত্তর দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম সুবিধাভোগি পরিবার ৬০টি।(৩) উত্তর দিঘলকান্দি প্রামাণিকপাড়া গুচ্ছগ্রাম ৫০ পরিবারের বসতভিটা।(৪) উত্তর দিঘলকান্দি সরকারপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ৮০ পরিবারের বসতভিটা।(৫) উত্তর দিঘলকান্দি মোল্লাপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ১০০টি পরিবারের বসতভিটা। এছাড়াও উত্তর দিঘলকান্দি ওয়ার্ডে নতুন করে দুটি প্রকল্পের মাটি কাটা কাজ চলছে সেগুলো হলো উত্তর দিঘলকান্দি মোল্লা পাড়া -২ আশ্রায়ন কেন্দ্র ও ) উত্তর দিঘলকান্দি আশ্রায়ন কেন্দ্র।

 

 

 

(১) দক্ষিন দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম সুবিধাভোগি পরিবার ১২০টি (সম্পুর্ণ নদীগর্ভে )। (২) দক্ষিন দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম-২ সুবিধাভোগি পরিবার ৫০টি (নদীগর্ভে)। (৩) দক্ষিন দিঘলকান্দি ডিক্রির চর গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম সুবিধাভোগি পরিবারের জন্য মাটি কাটা হয়েছিলো ঘর নির্মাণের পুর্বেই নদী গর্ভে চলে গেছে। (৪) দক্ষিন দিঘলকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৬০টি।(৫) দক্ষিন দিঘলকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প-২ সুবিধাভোগি পরিবার ৯০টি।(৬) দিঘলকান্দি আশ্রায়ন প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৬০টি। (৭) দক্ষিন দিঘলকান্দি পূর্ব আশ্রায়ন প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৯০টি । (৮) পূর্ব দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৫০টি। (৯) দক্ষিন দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৭০টি ( বর্তমানে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে)। (১০) দক্ষিন দিঘলকান্দি মির্জাপাড়া গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প সুবিধাভোগি পরিবার ৬০টি ।

 

 

গাড়ামাড়া সিপি ওয়ার্ডে (১) গাড়ামারা সিপি আশ্রায়ন কেন্দ্র ৭০ পরিবারের বসতভিটা। (২) গাড়ামারা সিপি চেঙ্গালিয়া গুচ্ছগ্রাম ৩০ পরিবারের বসতভিটা।(৩) গাড়ামারা সিপি চেঙ্গালিয়া গুচ্ছগ্রাম ৫০ পরিবারের বসতভিটা (নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে)। (৪) গাড়ামারা সিপি আশ্রায়ন কেন্দ্র মাটি কাটা হয়েছে( আবাসন নেই)।

 

 

 

 

পাতিলবাড়ি গ্রামে নির্মিত (১) পাতিলবাড়ি গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম সুবিধাভোগি পরিবার ৮০টি ( সম্পুর্ণ নদীগর্ভে )। (২) পাতিলবাড়ি আশ্রায়ন প্রকল্পের ৭০ পরিবারের বসতভিটা ছিলো যা নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে (সম্পুর্ণ নদীগর্ভে )

এছাড়াও সম্প্রতি কানাইপাড়া চর নামক স্থানে একটি আশ্রায়ন প্রকল্প এর জন্য মাটি কাটা হয়েছে। আবাসন নির্মাণ প্রক্রিয়া অব্যাহত।

 

 

 

এব্যাপারে উত্তর দিঘলকান্দি আব্দুল হামিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পটি ২০১৯ সালে নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। গত বছর ৬টি ব্যারাক ঘরের জায়গা নদী গর্ভে গেছে। ঘরগুলি ভেঙ্গে তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। তবে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান,পাশেই তার আরো একশ বিঘা জমি রয়েছে সেখানে যেন প্রকল্পটি স্থানান্তর করে দেয় সরকার। অথচ মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পের একটি ব্যারাক ঘর ৫টি রুম পুরোটাই হামিদ মন্ডলের দখলে রয়েছে। বিধি মোতাবেক আশ্রায়নের ঘর দলিলের পুর্বে ভাঙ্গন অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা সরকারের উপজেলা সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড অথবা ইউএনও এর কাছে জমা থাকবে। এই আশ্রায়নের ক্ষেত্রে তা হয়নি। সবকিছুই করছেন ওই হামিদ মন্ডল।

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রায়ন প্রকল্প করে দিলেও প্রকল্পটি হামিদ মন্ডলের টিলা নামেই পরিচিত

 

 

 

আরো জানা যায়, হামিদ মন্ডলের ভাতিজা  সাইদুর রহমান মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন প্রকল্পটির সেক্রেটারী থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করায় তার পরিবারের লোকজন ও আতœীয় স্বজনকে বিধি মোতাবেক দলিল রেজিষ্ট্রি করার পুর্বেই আশ্রায়নের নির্মিত ব্যারাকে তুলে দখলে নিয়েছে। ফলে ওই এলাকার গৃহহীন দরিদ্র মানুষজন সরকারি ঘরের সুবিধা বঞ্চিত হয়েছে। ৭টি ব্যারাক ঘর নদী ভাঙ্গনের শিকার হলেও সেকথা গোপন রেখে বিভিন্ন নামে ঘরগুলি তড়িঘড়ি করে তাদের নিজেদের লোকজনের নামে দলিল করে নেয়ার জোর পায়তারা করছে বলে জানা গেছে।

 

 

ধারাবাহিক চলবে...

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ