1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
সাঘাটার হলদিয়ায় আশ্রায়ন প্রকল্পে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে শ্রমিকের ভুয়া মাষ্টার রোল দেখিয়ে ডিও উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত দাবি ! (পর্ব-দুই) - আমাদের বাংলার সংবাদ




সাঘাটার হলদিয়ায় আশ্রায়ন প্রকল্পে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে শ্রমিকের ভুয়া মাষ্টার রোল দেখিয়ে ডিও উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত দাবি ! (পর্ব-দুই)

  • সংবাদ সময় : Saturday, 11 July, 2020
  • ৩৮৪ বার দেখা হয়েছে

সাঘাটার হলদিয়ায় আশ্রায়ন প্রকল্পে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু কেটে শ্রমিকের ভুয়া মাষ্টার রোল দেখিয়ে ডিও উত্তোলন করে কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ, তদন্ত দাবি !

 

 

আবু তাহের ঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি চরে ৫টি আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রামে কমপক্ষে ৪২৫ পরিবার থাকলেও এই বন্যার মাঝেই আরো দুটি নতুন আশ্রায়ন প্রকল্পের ভিটের মাটি কাটা কাজ চলছে। শ্রমিক দিয়ে আশ্রায়ন প্রকল্পে মাটি কাটার সরকারি নির্দেশ থাকলেও প্রকল্প সভাপতি বা চেয়ারম্যানরা সেই সব নিয়মনীতি উপেক্ষা করে স্যালো মেশিন দিয়ে বানানো অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটির পরিবর্তে ভূগর্ভস্থ থেকে বালু উত্তোলন করে ভিটে উচু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ করলেও বিভিন্ন শ্রমিকের নামে ভুয়া মাষ্টার রোল দেখিয়ে প্রকল্পের নামে বরাদ্ধকৃত গম উত্তোলন করে সেই ডিও কালো বাজারে বিক্রি করছে প্রকল্প সভাপতি। তদারকির দায়িত্ববানদের অনেকেই ওই অনিয়মের বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে আশ্রায়ন প্রকল্পের বরাদ্ধকৃত গম বা ডিও ছাড় দিচ্ছে। ভুক্তভোগিরা শ্রমিকের ভূয়া মাষ্টার রোলের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশুদৃষ্টি ও নিরপেক্ষ তদন্ত কামনা করছেন।

 

 

 

সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্ববানরা শ্রমিকের পরিবর্তে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও সুবিধা বঞ্চিত স্থানীয় শ্রমিকরা সাঘাটা উপজেলা প্রশাসন ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও সুরাহা পায়নি। উল্টো বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা নিয়ে অভিযোগকারীদের কয়েকজনকে টাকা দিয়ে অভিযোগটি ধামাচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

 

 

 

অভিযোগকারি উত্তর দিঘলকান্দির বক্কর প্রামাণিকের পুত্র শাহজাহান, মজিদ শেখের পুত্র শাহ জামাল, বছের শেখের পুত্র শাহ জাহান আলী সাজা, মজিদের পুত্র মনু আব্দুল হামিদ মন্ডলের পুত্র রেজাউল করিম এপ্রতিনিধিকে বলেন, এই করোনাকালীন সময়ে চরের অনেকেই কাজ না পেয়ে বাড়িতে অলস সময় ব্যয় করছে। অথচ উত্তর দিঘলকান্দি দুটি আশ্রায়ন প্রকল্পের ভিটে উচুঁ করণের কাজ চলছে। সেখানে শ্রমিকদের মাটি কাটার সুযোগ দিচ্ছেনা।

 

প্রকল্প সভাপতিরা নিজেদের ইচ্ছেমত অবৈধ বালু উত্তোলনের জন্য ব্যবহারকৃত ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটির অনেক নীচে থেকে বালু তুলে সেই বালু দিয়ে ভিটে উচু করছে। ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে মৌখিকভাবে বাধা দিয়েও প্রকল্প সভাপতির সাথে পেরে উঠতে না পেয়ে অবশেষে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরসহ মন্ত্রণালয়ে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ করি।

 

লিখিত অভিযোগের পর দায়িত্ববানরা ড্রেজার মেশিন বন্ধ না করে তারা আমাদের অভিযোগকারীদের কয়েকজনকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে এখন সেই অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়েই মাটি কাটার কাজ করছে। অথচ আমরা জানতে পারি নামে বেনামে ৩শত শ্রমিকের ভুয়া মাষ্টার রোল দেখিয়ে একের পর এক ডিও উত্তোলন করছে প্রকল্প সভাপতি উত্তর দিঘলকান্দিও আব্দুল মান্নান মোল্লা। ওই সকল গম আমাদের পরিবারে আসার কথা থাকলেও তা আবার কালো বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে করে আমরা কর্মহীনরা খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ত্রাণের জন্য ছুটাছুটি করছি। কাজ করে গম পেলেতো আমাদের এলাকার গরিব মানুষের আর কষ্ট থাকতোনা।

 

 

শ্রমিকের কথা চিন্তা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রায়ন প্রকল্পের মাটি কাটা কাজের বিনিময়ে খাবারের ব্যবস্থা করলেও কিছু অসাধুব্যক্তির জন্য তা হচ্ছেনা। তারা বলেন বালু দিয়ে ভিটে উচু করার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই বা বন্যার পানির ¯্রােতের একটু চাপ থাকলেই সেগুলো ভেঙ্গে যাবে। তখন আবার সরকারকে দেখিয়ে মেরামতের নামে লাখ লাখ টাকা নিজেদের পকেটে তুলবে।

 

 

অভিযোগকারীরা বলেন, উত্তর দিঘলকান্দি মৌজায় ৫টি আশ্রায়ন গুচ্ছগ্রাম আছে। সেগুলোর বানানো ঘরে ওই চরের ১০টা গরিব মানুষের ঠাই হয়নি। যে মেম্বর করে ঘর বানানোর পরেই ওই সকল ঘরে তাদের আতœীয় স্বজনদের ঘরে তুলে দিচ্ছে বা দিয়েছে। কোন গরিবের বা প্রতিবন্ধী পরিবারের ঠাই নেই। ওই মেম্বরেরা একদিকে শ্রমিককে ফাঁকি দিয়ে তাদের নাম বেচেঁ ড্রেজার দিয়ে কম মূল্যে বালু কেটে নিজেদের পেেকটে গম বেচার অধের্েেকর বেশি টাকা পকেটে তুলছে। আবার ঘর হলে সেই ঘরে নিজেদের ও ধনী লোকদের তুলে সেখানেও লাভবান হচ্ছে। শুধুকি তাই ? সরকারি লোক এলে দেখায় এক জায়গায় আবার মাটি কাটি আরেক জায়গায়। একারনেই মাটি কাটা বা ঘর তোলার বছরেই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে প্রকল্পগুলো।

 

 

চরের ছাত্তার মন্ডলের পুত্র আনোয়ার হোসেন ও অস্ত্র মির্জাার পুত্র জহুরুলসহ উত্তর দিঘলকান্দি চরের কয়েকজন জানান, উত্তর দিঘলকান্দি মৌজায় এ পর্যন্ত ৪২৫ পরিবারের জন্য আশ্রায়ন ও গুচ্ছ গ্রামের ঘর হয়েছে। আবার দুটি হচ্ছে সেখানেও ২শর বেশি পরিবারের বেশি আশ্রয় পাবে। আসলে ওই মৌজায় ধনী গরিব মিলেও এতো পরিবার নেই।

 

প্রকল্পগুলি (১) উত্তর দিঘলকান্দি মন্ডলপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ১৩৫ পরিবারের বসতভিটা যার ৩৫ পরিবারের ৭ টি ব্যারাকঘর নির্মাণের বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে (ওই সব ঘরের জায়গা ও ঘর সুবিধাভোগিদেরমাঝে দলিল সম্পাদনের পূবেই নদী ভাঙ্গনের শিকার) ভাঙ্গনকৃত ঘরের টিন এঙ্গেল দরজা-জানালা ইট খুলে নিয়ে সেগুলো হামিদ মন্ডল নামে এক ব্যাক্তি আতœসাতের চেষ্টা করছে। (২) উত্তর দিঘলকান্দি গুচ্ছগ্রাম/ আদর্শগ্রাম সুবিধাভোগি পরিবার ৬০টি।(৩) উত্তর দিঘলকান্দি প্রামাণিকপাড়া গুচ্ছগ্রাম ৫০ পরিবারের বসতভিটা।(৪) উত্তর দিঘলকান্দি সরকারপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ৮০ পরিবারের বসতভিটা।(৫) উত্তর দিঘলকান্দি মোল্লাপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্র ১০০টি পরিবারের বসতভিটা। এছাড়াও উত্তর দিঘলকান্দি ওয়ার্ডে নতুন করে দুটি প্রকল্পের মাটি কাটা কাজ চলছে সেগুলো হলো উত্তর দিঘলকান্দি মোল্লা পাড়া -২ আশ্রায়ন কেন্দ্র ও ) উত্তর দিঘলকান্দি আশ্রায়ন কেন্দ্র।

এলাকার ভূমিহীনদের ও গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থায় সরাসরি ভূমি মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিচালিত হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপরিকল্পিতভাবে নতুন জেগে উঠা চরে আশ্রায়ন ও গুচ্ছ গ্রামগুলি নির্মাণ করায় প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এতে প্রকল্প কমিটির লোকজন আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকারের কোটি কোটি টাকা নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে। একাধিক প্রকল্প প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি টাকা অপচয়ে অপরিকল্পিতভাবে এসব আশ্রায়ন ও গুচ্ছগ্রাম নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা।
এব্যাপারে প্রকল্প সভাপতি মান্নান মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতি হাজার মাটি কাটতে শ্রমিকদের জন্য যে পরিমান চাল বা গম রয়েছে এতে শ্রমিকরা কাজ করতে চাইবেনা, তাদের পোষাবেনা। তাই ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটছি

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ