1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
৪র্থ উপজেলা হিসাবে কাপাসিয়া উপজেলা ভ্রমণ করলেন রুবেল! - আমাদের বাংলার সংবাদ




৪র্থ উপজেলা হিসাবে কাপাসিয়া উপজেলা ভ্রমণ করলেন রুবেল!

  • সংবাদ সময় : Wednesday, 29 July, 2020
  • ১০৪ বার দেখা হয়েছে
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি :
কাপাসিয়া বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এ উপজেলার উত্তরে গফরগাঁও ও পাকুন্দিয়া উপজেলা, দক্ষিণে কালীগঞ্জ উপজেলা, পুর্বে মনোহরদী উপজেলা।
আজ বুধবার ( ২৯ শে জুলাই ২০২০) চতুর্থতম উপজেলা হিসাবে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ভ্রমণ করেছেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর বামনের চর গ্রামের সাকিব আল হাসান রুবেল। সকাল সাড়ে আটটায় স্থানীয় একটি হোটেল থেকে সকালের নাস্তা সেরে রওনা হোন দরদরিয়া গ্রামের বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের বাড়ী, রায়েদ ইউনিয়ন, টোক ইউনিয়ন, সিংহশ্রী ইউনিয়ন,  ফকির মজনু শাহ সেতু,  কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ, কাপাসিয়া থানা, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ ও নিরিবিলি হোটেলে।
সাকিব আল হাসান রুবেল বলেন- কাপাসিয়া উপজেলা একটি প্রাচীন জনপদ। এ জনপদের ভূমি গঠিত হয়েছে ২৫ লক্ষ বছর আগে। খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দী থেকে এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে তুলা উৎপাদিত হতো।
উল্লেখযোগ্য প্রাচীন নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম একডালা দুর্গ উপজেলা সদর হতে ৫ কিঃমিঃ দূরে কালী বানার, শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে অবস্থিত। অনুমান করা হয় ৬০০ খ্রিঃ কোন হিন্দু রাজা এ দুর্গটি নির্মাণ করেন। এর দৈর্ঘ্য ৫ কিঃমিঃ, প্রস্থ ২ কিঃমিঃ। পান্ডুয়ার শাসনকর্তা হাজী শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ দুর্গটি ১৩৪২ খ্রিঃ হতে ১৩৫২ খ্রিঃ সময়ে সংস্কার করেছিলেন।
পৌনে দু‘শ‘ বছর পর ১৫১৮ খ্রিঃ হতে ১৫৩২ খ্রিঃ আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির উদ্দিন শাহ পুনরায় দুর্গটি সংস্কার করেন। রায়েদ ইউনিয়নে কালী বানার নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত দ্বার-ই দরিয়া (দরদরিয়া) দুর্গ ছিল একডালা দুর্গের শাখা দুর্গ।
মোগল সম্রাট আকবরের সময়ে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলকে ভাওয়াল পরগণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ব্রিটিশ রাজত্বের সময় কাপাসিয়া থানা ২৮টি ইউনিয়ন ছিল বলে জানা যায়। ১৯২৪ সালে কাপাসিয়া থানাকে কালিগঞ্জ ও শ্রীপুর থানায় বিভক্ত করা হয়। ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় কাপাসিয়া থানা। ১৫-১২-১৯৮২ সালে কাপাসিয়া থানাকে উপজেলায় উন্নতি করা হয়।
তিনি আরো বলেন- মজনু শাহ  মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক এবং বাংলায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আধিপত্যের বিরুদ্ধে ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের নায়ক। মজনু শাহ ছিলেন মেওয়াটের অধিবাসী। তাঁর প্রথম জীবন সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তাঁর প্রকৃত নামও অজ্ঞাত। মজনু শাহ নামেই তিনি পরিচিত। কখনও মজনু শাহ বুরহানা, আবার কখনও বা মজনু ফকির নামে তাঁর উল্লেখ পাওয়া যায়।
বাংলায় বিহার ভিত্তিক মাদারিয়া সুফি তরিকার নেতা শাহ সুলতান হাসান সুরিয়া বুরহানার মৃত্যুর পর আঠারো শতকের মধ্যভাগে মজনু শাহ এ তরিকার নেতৃত্ব লাভ করেন। তিনি বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তাঁর সংগ্রামে সুফি দরবেশ ও যোগী সন্ন্যাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। তিনি বিহারের পশ্চিমাঞ্চল থেকে বাংলার পূর্বপ্রান্ত পর্যন্ত অবিরাম সফর করে এ অঞ্চলের ফকির ও সন্ন্যাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেন।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে বাংলার বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণি ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন লাভে সক্ষম হন। মজনু শাহ সাধারণত দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ থানার বালিয়াকান্দিতে বসবাস করতেন। বগুড়ার মাদারগঞ্জে তাঁর একটি অস্থায়ী নিবাসও ছিল।
মজনু শাহ ১৭৬০ সাল থেকে বাংলায় ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন এবং দীর্ঘ ছাবিবশ বছর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন। কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর সশস্ত্র সংগ্রামে তিনি প্রকাশ্য যুদ্ধ ও গেরিলা যুদ্ধে পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক সংখ্যক ফকির ও সন্ন্যাসীদের সংঘবদ্ধ করতে সক্ষম হন।
তিনি তাঁর অধীনস্ত সৈন্যাধ্যক্ষদের নিয়ে সারা বাংলায় বহু সফল অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে তিনি কোম্পানির কুঠি, রাজস্ব অফিস ও স্থাপনা দখল করে নেন, কোম্পানির শাসকদের তাঁবেদার জমিদারদের কাচারি লুট করেন এবং কোম্পানির সেনাবাহিনীকে পরাজিত ও পর্যুদস্ত করেন। এসব যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক ইংরেজ সৈন্য ও কর্মচারী নিহত হয়।
মজনু শাহের প্রধান কৃতিত্ব এখানেই যে তিনি ফকির ও সন্ন্যাসীদের ঐক্য অক্ষুন্ন রেখে শাসকশ্রেণীর বিরুদ্ধে তাঁর সুদীর্ঘ সংগ্রামের অখন্ডতা অব্যাহত রাখতে পেরেছেন।
মজনু শাহ ১৭৮৬ সালে ময়মনসিংহ সন্নিহিত অঞ্চলে অভিযানকালে কালেশ্বর এলাকায় লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের অধীনে কোম্পানির এক বাহিনীর নিকট পরাজয় বরণ করেন। এ যুদ্ধে তাঁর বহুসংখ্যক অনুসারী নিহত হন। যুদ্ধে আহত তাঁর কতিপয় অনুসারীকে মেওয়াটে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭৮৬ সালের পরে মজনু শাহকে আর কোনো অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।
লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় যে, মজনু শাহ ১৭৮৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এক যুদ্ধে পরাজিত ও আহত হন। ১৭৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি কানপুর জেলার মকানপুরে শাহ মাদারের দরগায় মৃত্যুবরণ করেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। সম্ভবত যুদ্ধে আহত অবস্থায় তিনি শাহ মাদারের দরগায় ফিরে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
দুপুরে খাওয়া দাওয়া করেন হোটেল নিরিবিলিতে।
সাকিব আল হাসান রুবেল বলেন আরো বলেন – হোটেল নিরিবিলি এত সুন্দর আগে জানতাম না। ভিতরে প্রবেশ করে দেখি হোটেলের ভিতরে টানানো বড় বড় নেতা সরকারি কর্মকর্তাদের ছবি। তাও আবার হোটেল মালিক তোতার সাথে।
সকাল ৬টা থেকে একটানা রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে তোতা মিয়ার হোটেল। ৬০ রকমের ভর্তা ও ৭০ রকম তরকারি পাওয়া যায় এখানে। তবে বিভিন্ন রকমের ভর্তাই সবচেয়ে জনপ্রিয় এখানে। খেতে আসা লোকজন বেশির ভাগই ভর্তা খাওয়ার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়িতেও নিয়ে যান।
বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রপ্রতি  অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজসহ সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা, জেলার নামি-দামি মানুষদের জন্য তোতা মিয়ার হোটেল থেকে নানা রকমের ভর্তা নেওয়া হয়। পরিবেশ আসলেই নিরিবিলি। এখানে সবচেয়ে কম মূল্যে অতি সুস্বাদু খাবার খাওয়া যায়।
বর্তমান উচ্চমূল্যের বাজারেও এখানে মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পেটপুরে খাওয়া যায়। ‘‘দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল টোক বাজারে সুন্দর নিরিবিলি পরিবেশে একটি খাবার হোটেল দিবেন তোতা মিয়ার। সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে।
তবে সরকারের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে সে এখানে কম খরচে অত্যাধুনিক আবাসিক হোটেল করে দূর-দূরান্তের পথচারীদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে চান। সাকিব আল হাসান রুবেল ইতিমধ্যে হটলাইন নাম্বার চালু করেছেন (০১৯১১-৪১৯৬৭৫ )। যে কোন বিষয়ে জানতে সকলের নিকট তিনি করজোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ