1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
৬ষ্টতম উপজেলা হিসাবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ভ্রমণ করলেন রুবেল - আমাদের বাংলার সংবাদ




৬ষ্টতম উপজেলা হিসাবে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা ভ্রমণ করলেন রুবেল

  • সংবাদ সময় : Saturday, 1 August, 2020
  • ৭২ বার দেখা হয়েছে

ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি :
সাকিব আল হাসান রুবেল সুপরিচিত একটি নাম। বিশেষ করে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ক্রমে ভ্রমন করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন- স্বপ্ন দেখলে তার জন্য কাজ করলে পৃথিবীতে সবই সম্ভব। ইতিমধ্যে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা, নিকলী উপজেলা, কটিয়াদি উপজেলা, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা ও ময়মনসিংহের ভালুকা ভ্রমন করেছেন সাকিব আল হাসান রুবেল।

রুবেলের গ্রামের বাড়ী কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর বামনের চর গ্রাম। আজ শুক্রবার ( ৩১ শে জুলাই ২০২০) সকালে ত্রিশাল উপজেলা এসে পৌঁছান। হালকা নাস্তা করে প্রথমে রওনা হোন কাজীর শিমলা দারোগা বাড়ী।

পর্যায়ক্রমে ঘুরে দেখেন- দরিরামপুর ঈদগাহ মাঠ, নজরুল মঞ্চ, ত্রিশাল মহিলা কলেজ, নামাপাড়া বটগাছ, কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ। সাকিব আল হাসান রুবেল বলেন- খ্রীষ্টীয় চতুর্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে ময়মনসিংহ জেলায় মুসলিম শাসনের আগমন ঘটে।

শাসন কার্যের সুবিধার্থে মুসলিম শাসকগণ নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ে পরগনার সৃষ্টি করেন। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বভাগ ময়মনসিংহ এবং পশ্চিমভাগ আলাপসিংহ পরগনা হওয়ায় ত্রিশাল স্বাভাবিক ভাবেই আলাপসিংহ পরগনার অর্ন্তভূক্ত হয়।

প্রথমদিকে মুসলমানদের সংখ্যা বসতি বেশি দেখা গেলেও পরে আস্তে আস্তে হিন্দু ও সনাতন ধর্মাবলীদের আগমনের পূর্বে গারোদের বংশধর এখানে বসতি স্থাপন করে। ত্রিশাল বাজার হওয়ার পূর্বে নওধার ভাংতির পূর্ব পার্শ্বে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিমে সুতিয়া নদীর দক্ষিণ তীরে কুলাইতলা মন্দিরকে ঘিরেই ছিল নওধার হাট, যা জমিদাররা নাম দেয় রাধাগঞ্জ, পরবর্তীতে ত্রিশাল বাজার হওয়ার পর ধীরে ধীরে তার অস্তিত্ব হারায়।

১৯০৯ সালে ত্রিশাল থানা সৃষ্টি হয়। ১৯৮৩ সালে ১২টি ইউনিয়ন ও ৯১টি মৌজা নিয়ে এটিকে উপজেলায় উন্নিত করা হয়। ত্রিশাল নামকরণের ইতিহাস হিসেবে জানা যায় যে, ত্রিশুলধারী কোন এক ব্যক্তি এসেছিলেন এই এলাকায়। আবার কেউ কেউ বলেন, তিনটি বড় শাল গাছ ছিল। যদিও এই দুইটি থেকে ত্রিশাল নাম সৃষ্টি হওয়ার নির্ভরযোগ্য কোন সূত্র পাওয়া যায়নি।

তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যে তথ্যটি পাওয়া যায় তা হলো, গভীর অরণ্যে বেষ্টিত এই অঞ্চলে নদী-নালা, খাল-বিল, হাওরের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় হিংস্র জীবজন্তু থেকে বাঁচার জন্য পূর্বের মানুষজন বাড়ির আশেপাশে উচুঁ প্রাচীর দিত যা আল নামে পরিচিত ছিল।

যদি নতুন কেউ এখানে বাস করতে চাইত তাহলে তাদের ত্রিশ আলের যে কোন আলের অন্তর্ভুক্ত হতে হত। ১৯১৪ সালে উপজেলার ত্রিশালের কাজীর শিমলা  গ্রামেই প্রথম পা পড়ে আমৃত্যু সাম্যের জয়গান করা কবি কাজী নজরুল ইসলামের।

তাও আবার কাজী রফিজউল্লাহ সাহেবের মাধ্যমে। কাজী রফিজ উল্লাহ্ দারোগা ১৯১৪ সালে আসানসোলের রুটির দোকান থেকে কিশোর কবি নজরুলকে ত্রিশাল কাজীর শিমলা নিজ গ্রামে নিয়ে আসেন।

ভর্তি করিয়ে দেন দরিরামপুর হাই স্কুলে বর্তমান নাম নজরুল একাডেমি। এই স্কুলে কবি ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করেছেন। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার খাতায় নজরুল লিখেছিলেন ‘আমি এক পাড়া গাঁয়ে স্কুল-পালানো ছেলে, তার উপর পেটে ডুবুরি নামিয়ে দিলেও ‘ক’ অক্ষর খুঁজে পাওয়া যাবেনা। স্কুলের হেডমাস্টারের চেহারা মনে করতেই আজও জল তেষ্টা পেয়ে যায়’।

কবির স্মৃতিকে ধরে রাখতে কবির সেই ক্লাস রুম ও দেয়ালে এই কবিতার লাইন খোদাই করে সংরক্ষণ করা আছে। কাজির শিমলা থেকে দরিরামপুর গিয়ে স্কুল করতে কবির খুব কষ্ট হয়ে যাওয়ায়, দারোগা রফিজ উদ্দিন কবিকে ত্রিশালের নামাপাড়া গ্রামে তাঁর এক আত্মীয় বাড়িতে থেকে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেন। তবে সে বাড়িতে কবি কিছুদিন থাকার পর চলে আসেন বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে। এখানে কবি জায়গির থেকে পড়াশোনা করতেন।

বিভিন্ন গবেষকের লেখা থেকে জানা যায়, কবি ১৯১৪ সালের ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষা দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে ত্রিশাল থেকে চলে যান এবং শিয়ারশোল রাজ হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেই হিসাব মতো ত্রিশালে কবির অবস্থান কয়েক মাসই বটে। ত্রিশালে কবির অবস্থান কয়েক মাস কিংবা এক থেকে দুই বছর যাই হোক, সে সময়টুকু কাজির শিমলা, দরিরামপুর আর বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে কবির সে সময়ের কৈশোর অনেক স্মৃতিমাখা।

স্কুল পালিয়ে ত্রিশাল নামাপারা শুকনি বিলের পাড়ে একটি বট গাছের নিচে কবি নজরুল আপন মনে বাঁশিতে সুর তুলতেন। আবার কেউ কেউ বলেন কবিতা লেখতেন। এটি এখন নজরুল বট বৃক্ষ।

দুই বাংলার নজরুল ভক্তদের কাছে এটি তীর্থস্থান। বটের নিচে প্রায়ই বসে কবিদের আসর। আজ কবি নেই কিন্তু এই বট গাছটি আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে কবির অস্তিত্ব ঘোষনা করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ