1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
৯০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের লোভে প্রকল্প পরিচালক নজরুল বরখাস্ত  - আমাদের বাংলার সংবাদ




৯০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের লোভে প্রকল্প পরিচালক নজরুল বরখাস্ত 

  • সংবাদ সময় : Tuesday, 1 September, 2020
  • ৮৭৫ বার দেখা হয়েছে
তুষার মাহমুদঃ স্থানীয় সরকার বিভাগের, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মরর্তা জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়া, ৩২ টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও এনভায়রনমেন্ট স্যানিটেশন প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা এর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও অশ্লীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় গুরুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় উক্ত বিধিমালার বিধি ১২(১) অনুযায়ী তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক ৩১ আগস্ট ২০২০ তারিখ জারিকৃত প্রজ্ঞাপনমূলে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়া প্রকল্প পরিচালক ৩২ টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ঢাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সমগ্র দেশে পানি সরবরাহ শীর্ষক’প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্তৃক প্রেরিত প্রস্তাবের বিষয়ে সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রদানের জন্য আবেদন করেন। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য  প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক জ্যৈষ্ঠ (অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী) কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে বর্নিত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়।
উন্নয়ন  প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত কমিটি রয়েছে।কমিটির সভায় প্রস্তাবিত  কর্মকর্তাদের মধ্যে হতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। বর্নিত কমিটির সুপারিশের আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সদয় অনুমোদন গ্রহণের পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়। কিন্তু, জনাব মো: নজরুল ইসলাম মিয়া স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটি এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সম্পর্কিত পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত প্রকল্প পরিচালক সম্পর্কিত কমিটির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে ২৫/০৫/২০২০ খৃঃ তারিখে সিনিয়র সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগকে প্রতিপক্ষ করে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। লিগ্যাল নোটিশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মূখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বরাবর প্রেরণ করেন।লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেন যে প্রধান প্রকৌশলী, ডিপিএইচই কর্তৃক পুনঃ রায় প্রেরিত ০৩(তিন) জন কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত পূরণ করে না শুধুমাত্র তিনিই প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের জন্য যোগ্য। এছাড়া শুধুমাত্র তিনিই প্রকিউরমেন্টসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলী, ডিপিএইচই তাকে বঞ্চিত করে বে-আইনীভাবে তাঁর চেয়ে কম যোগ্য তিনজন কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। উল্লিখিত বিষয়াদি বিবেচনায় তাকে তিন দিনের মধ্যে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ প্রদানের বিষয়টিও লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়। অন্যথা, তিনি এতদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন মর্মে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেন।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তাঁর এ ধরণের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (আচরণ)  বিধিমালা ১৯৭৯ এর বিধি ৩০(এ) পরিপন্থী। তিনি সরকারের অথবা কর্তৃপক্ষের কোন স্বীদ্ধান্ত বা আদেশ পালনে বাঁধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। তাঁর কর্তৃক প্রেরিত লিগ্যাল নোটিশ সরকারের বা কর্তৃপক্ষের কোন স্বীদ্ধান্ত বা আদেশ পরিবর্তন, বদলানো,সংশোধন বা বাতিলের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুচিত প্রভাব বা চাপ প্রয়োগ করে। নির্ধারিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও তিনি শুধুমাত্র নিজেকে যোগ্য হিসেবে দাবি করে। যা কর্মচারী/সহকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ্টি সৃষ্টি করে সরকারি কর্মচারী (আচরণ)  বিধিমালা ১৯৭৯ এর বিধি ২৮ ও বিধি ৩০ নং লংঘন করে। এ বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রেরণ করা হলে তিনি জানান প্রায় ৯০০০/- (নয় হাজার) কোটি টাকা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাবে তাঁর নাম না থাকায় তিনি আশাহত হয়ে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেছেন। অনৈতিক চাপ প্রয়োগের কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না। যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনমূলে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান যে, জনাব মো: নজরুল ইসলাম মিয়া একজন সহকারী প্রকৌশলী, তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পে যোগদান করেন। উন্নয়ন প্রকল্প হতে ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি তিনি অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত হন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে এবং মন্ত্রণালয়ে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে তিনিসহ আরো ৯৪ জন নন-ক্যাডর কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভূক্ত করে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভূক্তির জি.ও. জারী করান। উক্ত জি.ও.-তে অধিদপ্তরে রাজস্বখাতে স্থানান্তরের তারিখকে ক্যাডারভুক্তি তারিখ হিসেবে উল্লেখ করান। প্রকৃতপক্ষে যথাযথ পদ্ধতিতে ক্যাডারভুক্ত হলে সে ক্ষেত্রে ক্যাডারভুক্তির জি.ও. জারির তারিখ হতে ক্যাডারভুক্ত হবার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বিষয়টি দৃষ্টি গোচর হলে বর্ণিত ক্যাডারভুক্তির জি.ও.টি বাতিল করা হয়। উক্ত জি.ও. জারী করার সময়ে তিনি বিভিন্ন নন-ক্যাডার কর্মকর্তাকে ক্যাডারভুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্র পত্রিকায়ও খবর প্রকাশিত হয়েছে। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন উচ্চাভিলাসী ও দাম্ভিক কর্মকর্তা। তার আচরণে অধিদপ্তরের অনেক কর্মকর্তার ও কর্মচারী ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ