1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
নিউজ টুয়েন্টি ওয়ান নামে ভুয়া অনলাইন টিভি ও সাপ্তাহিক অপরাধ চক্র'র অফিসে র‌্যাবের অভিযান: প্রতারক চক্র'র শহিদুল ও আমেনা গ্রেফতার - আমাদের বাংলার সংবাদ




নিউজ টুয়েন্টি ওয়ান নামে ভুয়া অনলাইন টিভি ও সাপ্তাহিক অপরাধ চক্র’র অফিসে র‌্যাবের অভিযান: প্রতারক চক্র’র শহিদুল ও আমেনা গ্রেফতার

  • সংবাদ সময় : Thursday, 3 September, 2020
  • ২৫২ বার দেখা হয়েছে
কারো হাতে লোগোসহ মাইক্রোফোন, কারো কাঁধে ভিডিও ক্যামেরা, আর কারো হাতে ক্যামেরা স্ট্যান্ড, গলায় ঝুলনো থাকছে প্রেস লেখা চওড়া ফিতায় আইডি কার্ড। সকাল থেকেই ছুটে চলা অবিরাম। কখনো জন-প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎকার ছাপানোর নামে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা নেয়া, আবাসিক হোটেলে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করা, জমি দখল মুক্ত করে দেয়া এবং সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিলো এই চক্রটির প্রধান কাজ। সাংবাদিকতার নামে এভাবেই চলছিলো তাদের প্রতারণা। যাকে বলে অপ-সাংবাদিকতা।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-৩ এর একটি টিম বিশেষ অভিযান চালায় নিউজ টুয়েন্টি ওয়ান নামের একটি ভুয়া অনলাইন টেলিভিশন অফিসে। সেখানে র‌্যাবের অভিযানে একের পর এক বেড় হতে থাকে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।
বিভিন্ন মানুষকে চাকরি পাইয়ে দেয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো নিউজ টুয়েন্টি ওয়ানের মালিক শহিদুল ইসলাম।অভিযানে সেখানে বেশ কিছু নথিপত্রও পায় র‌্যাবের কর্মকর্তারা।
অভিযানের সময় র‌্যাব জানতে পারে শহিদুলের প্রধান ঘাটি হলো রাজধানীর পল্টন এলাকায়। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুর ২টায় শহিদুলকে নিয়ে র‌্যাব অভিযান চালায় পল্টন থানা এলাকার ৫০/১ ভবনের ৮ম তলার সাপ্তাহিক অপরাধ চক্রের কার্যালয়ে। অভিযানটির নেতৃত্বে ছিলেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের নাম এবং সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সীল ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলো। এমন প্রতারণার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম ও আমেনা খাতুন নামের ২জনকে আটক করা হয়। র‌্যাব জানায়, তাদের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা অবস্থায় র্যাব হাতেনাতে আটক করে। অভিযানে তাদের অফিস তল্লাসি করে বিভিন্ন নামীয় উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিবসহ সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের জাল সীল, জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ৮২টি, চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন ভুয়া নথিপত্র উদ্ধার করে র্যাব-৩।
এবি চ্যানেল নামের অনলাইনে কর্মরত প্রতারণার শিকার নোয়াখালীর রিয়া (১৮) জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে জাহাঙ্গীর (২৫) নামের এক যুবকের সাথে পরিচয় হয় রিয়ার। তার মাধ্যমেই পল্টনে সাপ্তাহিক অপরাধ চক্র ও এবি চ্যানেল নামের অনলাইন টিভিতে যোগদান করেন তিনি। অফিসেই তাকে ২৪ ঘন্টা রাখা হয়েছিল। মাঝে মধ্যে তাকে পাঠানো হত বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের কাছে উন্নয়নের বক্তব্য আনতে। রিয়া জানায় মিডিয়াতে নিজেকে গড়ে তোলা এক স্বপ্ন ছিল। আর সেই স্বপ্ন পুরন করতে রিয়া তার মায়ের গহনা বিক্রি করে এই প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে ৬০হাজার টাকা। ৬ মাসের মত কাজ করলেও রিয়া পায়নি কোন পারিশ্রমিক। তবে অফিসেই ছিল তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। রিয়া এইচএসসি পরিক্ষায় অকৃতকার্য।
প্রতারণার শিকার টাঙ্গাইল থেকে আসা নিশি (১৯) বলেন, তিনি একটি পার্লারে কাজ করতেন। ৩মাস হল তিনি এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তার কাজ ছিল বিভিন্ন নিউজে ভয়েজ দেয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ক্যামেরা নিয়ে বাইরে যাওয়া। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ।
এদিকে সাপ্তাহিক অপরাধ চক্রের প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয়দানকারী আমেনা বলেন, তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কোন অপকর্ম করেননি। আর্থিক অভাব থাকায় কাউকে (সাংবাদিক) বেতনভুক্ত রাখা সম্ভব হয়নি। তাই সকলকে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। চাকরির নামে অর্থ আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি কারো কাছে টাকা নেননি। তবে তার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী সম্পাদক এই অপকর্ম করেছেন বলে জানতে পেরেছেন।
পল্টনের অফিসটি প্রতিমাসে ৩৩ হাজার টাকা ভাড়া ও স্টাফ খরচ ২০ হাজার টাকা। তার দেয়া এই তথ্যমতে কিভাবে এই খরচ বহন করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা নিউজ দিতে টাকা নিয়ে আসে ও কিছু বিজ্ঞাপন পান তাই দিয়ে খরচ চালানো হতো। তবে বিজ্ঞাপনের হিসাব বা আয়ের কোন বৈধ হিসাব তিনি দেখাতে পারেননি।
তবে প্রতারক সহিদুল ইসলাম বলেন, আমি অন্যায় করছি তাই এখন এর প্রাশ্চিত্ত করছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ