1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার - আমাদের বাংলার সংবাদ




স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার

  • সংবাদ সময় : Monday, 14 September, 2020
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

বর্তমানে মানুষের অবসরের সঙ্গী স্মার্টফোন। এটি মানুষকে ঘোরে ফেলে দেয়। ফলে মনের অজান্তেই মানুষ কিছুক্ষণ পর পর স্মার্টফোন চেক করে। এই আকর্ষণের আগুনকে আরো প্রজ্বালিত করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলো। এ যেন এক ডিজিটাল মাদক। স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনেক কাজ সহজে সম্পাদন করা যায়। যারা স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার করে স্মার্টফোন তাদের জন্য আল্লাহর নিয়ামত। আর এর সঠিক ব্যবহার হলো, বান্দার পক্ষ থেকে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া করা।

মুফতিয়ে আজম মুফতি শফি (রহ.) তাঁর গ্রন্থ ‘আলাতে জাদিদা কে শরয়ি আহকাম’ নামক গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আল্লাহর নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারও শুকরিয়ার একটি স্তর। কিন্তু তাতে এতটাই মগ্ন হওয়া যাবে না যে নেয়ামতদাতাকেই ভুলিয়ে দেয়।’ (আলাতে জাদিদা কে শরয়ি আহকাম, পৃষ্ঠা ১৫)

কিন্তু যারা এর অপব্যবহার করে, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর জিনিস। কেননা এর দ্বারা মানুষের গুনাহের পাল্লা প্রতিনিয়ত ভারী হতে থাকে। যারা দিনরাত স্মার্টফোনে গান-বাজনা ও হারাম জিনিস দেখে, সেগুলো তৈরি করে, শেয়ার করে, তাদের এর গুনাহ যুগের পর যুগ ভোগ করতে হবে। (নাউজুবিল্লাহ!)

কারণ তারা শুধু নিজেরাই পাপ করে না; বরং অন্যকেও পাপে উদ্বুদ্ধ করে। হারাম জিনিস শেয়ার করার মাধ্যমে অন্যদের হারামে লিপ্ত করে, যার পরিণতি ভয়াবহ। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)

অতএব স্মার্টফোনের মাধ্যমে গুনাহের জিনিসগুলো মানুষকে পাঠালে তারা সেগুলো দেখে যে পরিমাণ গুনাহ অর্জন করবে, যিনি পাঠিয়েছেন তিনিও তাদের সমপরিমাণ গুনাহের ভাগীদার হবেন। তাই স্মার্টফোনকেন্দ্রিক গুনাহগুলো থেকে আমাদের দূরে থাকা উচিত।

অনেকে আছে স্মার্টফোন ব্যবহার করে হারাম কিছু দেখে না, কিন্তু স্মার্টফোনেই তাদের প্রচুর সময় নষ্ট হয়। অথচ কিয়ামতের দিন মানুষকে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব দিতে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও নিজ স্থান থেকে নড়তে দেওয়া হবে না। ১. তার জীবনকাল কিভাবে অতিবাহিত করেছে, ২. যৌবনের সময়টা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৩. ধন-সম্পদ কিভাবে উপার্জন করেছে, ৪. তা কিভাবে ব্যয় করেছে, ৫. সে দ্বিনের যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছে, সে অনুযায়ী আমল করেছে কি না। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৬)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে নিয়ামতের বিষয়ে মানুষ ধোঁকার মধ্যে থাকে। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

আর স্মার্টফোন এমন একটি জিনিস, যা মানুষকে অবসরে আল্লাহর জিকির থেকে সবচেয়ে বেশি গাফিল রাখে। তাই প্রয়োজনের তাগিদে স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যাতে তা আমাদের গুনাহে লিপ্ত করতে না পারে। আমাদের সময় নষ্ট করতে না পারে।

সুসময় আল্লাহর অনেক বড় নিয়ামত। আমাদের সবার উচিত তার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে লোক বিপদাপদ ও সংকটের সময় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভ করতে চায় সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি পরিমাণে দোয়া করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮২)

তাই অবসরে ও সুসময়ে স্মার্টফোনের নেশায় ডুবে না থেকে সার্বক্ষণিক আল্লাহকে স্মরণ করা উচিত। আল্লাহর দেওয়া সময় ও সুস্থতাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে ব্যয় করা উচিত। তবেই তো আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সোনালি মুহূর্তে রূপান্তরিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ