1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  6. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  7. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  8. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
ঝরি-বাতাস আসলে দৌড় দ্যাম মানসের বাড়িত - আমাদের বাংলার সংবাদ




ঝরি-বাতাস আসলে দৌড় দ্যাম মানসের বাড়িত

  • সংবাদ সময় : Saturday, 17 October, 2020
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা):
মোর ম্যালা বয়স হচে বাহে। হামার ছউলের বাপও সেংকা চলব্যার পায় না। মোর বেটি নাই বাবা। একটা খালি বেটা আচে। সেটাও পাগলা। অল্পে এ্যানা জমি হামার। সেটে ঠোসের বেড়া দিয়্যা ছাপড়া তুলে আচোম। ঝরি-বাতাস আসলে ঘরত থাকা যায় না বাবা । তকন বেটা ও তার বাপক নিয়্যা দৌড় দ্যাম মানসের বাড়িত।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে এমনভাবে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামের সৈয়দ আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা আমেনা বেগম ।

 

 

তিনি আরও বলেন, ও বাহে সাংবাদিকের বেটা। মোর ফটো তুলি নিলেন, তা হামাক কিচু দিবেন নাকি। মোর একটা ঘর নিয়্যা দেও বাবারে। তোমার জন্নে আল্লার কাচে দোয়া করিম বাহে।

 

জানা যায়, সত্তোরোর্ধ বয়সের আমেনা বেওয়া। স্বামী সৈয়দ আলী বয়সের ভারে ন্যুব্জে পড়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে একমাত্র সন্তান রাজ্জাক মিয়া। সেও মানসিক প্রতিবন্ধী। সহায় সম্পদ হিসেবে রয়েছে ৮ শতক জমি। সেখানে পলিথিন আর খড়ের বেড়া দিয়ে তুলেছে একটি ছাপড়া ঘর। জরাজীর্ণ এ ঘরে স্বামী-সন্তানের বসবাস। আকাশের মেঘ দেখলে আতঙ্ক বিরাজ করে তাদের মনে। একটু ঝড়-বৃষ্টি আসলেই দৌড় দিতে হয় অন্যের বাড়িতে। এছাড়া রান্না ঘর, টিউবয়েল-টয়লেটেও নেই তাদের। নেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও।

 

 

 

যেনো অন্ধকার ভুতড়ে বসবাস। খোলা আকাশের নিচে রান্নাবান্না সারতে হয় আমেনাকে। প্রতিবন্ধী ছেলে রাজ্জাক মিয়া ভবঘুরে। স্বামী সৈয়দ আলীর শরীরেও নানা রোগে বাসা বেঁধেছে। একই অবস্থা আমেনা বেগমেরও। তবুও পেটের তাগিতে ছুটতে হয় মানুষের দুয়ারে। দিনশেষে যেটুকু রোজগার হয়, তা দিয়ে পেট পুড়ে খেতে হয়। মাসে একদিনও খেতে পারে না মাছ-মাংশ। স্বামী-স্ত্রী সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। কারণ একটাই, ভাঙাচুরা ঘর। কখন দুর্যোগ উঠে এমন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পলিথিন ঘরে বসবাস করে আসছে আমেনার পরিবারটি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন দুর্ভোগের শিকার এ পরিবারটি বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা থেকেও বঞ্চিত। প্রশাসন কিংবা জনপ্রতিনিধি দ্বারা আজও তাদের কপালে জুটেনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা। সেই সঙ্গে করোনা ও বন্যা পরিস্থিতিতেও পায়নি কোনো ত্রাণ-সামগ্রী। সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছে আমেনা ও তার স্বামী-সন্তান।

 

বৃদ্ধা আমেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার আর স্বামীর শরীর চলে না। ছেলেটাও মানসিক প্রতিবন্ধী। ভাঙা ঘরে রাতে সুইলে ভয় লাগে। চেয়ারম্যান-মেম্বরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কিছুই পাওয়া যায়নি। প্রধামন্ত্রী যদি একটা ঘর দিত মন ভরি দোয়া দিতাম।

 

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) মেম্বর সাইফুল ইসলাম বলেন, আমেনার বিষয়টি জানা ছিলো না। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবীনেওয়াজ বলেন, আমেনা বেগমকে সাহায্যের চেষ্টা করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ