1. ashik@amaderbanglarsangbad.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  2. akhikbd@amaderbanglarsangbad.com : Ashikur Rahman : Ashikur Rahman
  3. babul6568@gmail.com : অনলাইন ডেক্স : অনলাইন ডেক্স
  4. admin@amaderbanglarsangbad.com : belal :
  5. sv.e.t.a.m.ahovits.k.aya.8.2@gmail.com : danniellearchdal :
  6. sv.e.ta.m.ah.ov.i.tsk.a.y.a82@gmail.com : kimberleybogan9 :
  7. lima@webcodelist.com : Khadizatul kobra Lima : Khadizatul kobra Lima
  8. rkp.jahan@gmail.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  9. nimushamim46@gmail.com : Shamim Nimu : Shamim Nimu
  10. abc@solarzonebd.com : Staf Reporter : Staf Reporter
  11. tahershaghata@gmail.com : Abu Taher : Abu Taher
নবীজি (সা.)-এর জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ১২




নবীজি (সা.)-এর জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ১২

  • সংবাদ সময় : Sunday, 10 January, 2021
  • ২০ বার দেখা হয়েছে
নবীজি (সা.)-এর জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ১২

রাসুল (সা.)-এর জীবনে ১২ সংখ্যাটি নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁর জন্ম-মৃত্যু থেকে জীবনের বাঁক বদলে দেওয়া অনেক ঘটনার সঙ্গে ১২ সংখ্যাটি যুক্ত হয়েছে। ইতিহাসবিদ ইবনে ইসহাক বলেন, মুহাম্মদ (সা.) হাতির ঘটনার বছর ১২ রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেছেন। (সিরাতে ইবনে হিশাম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৮)

এটি প্রসিদ্ধ অভিমত। যদিও এর বিপরীত অভিমতও আছে ইতিহাসবিদদের। আর ‘রাহিকুল মাকতুম’ নামক গ্রন্থে এসেছে, রাসুল (সা.) মক্কায় বনি হাশিমের ঘাঁটিতে সোমবার সকালে ৯ রবিউল আওয়াল জন্মগ্রহণ করেন। ওই বছর হাতির ঘটনা ঘটে। (আর রাহিকুল মাকতুম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত ১২ রবিউল আউয়াল হওয়ার বিষয়ে ইতিহাস ও সিরাতবিদদের দ্বিমত নেই।

তাঁর ওফাতের সময় ছিল ১১ হিজরি, মাসটি ছিল রবিউল আউয়াল, আর তারিখ ছিল ১২, দিনটি ছিল সোমবার, সময় ছিল চাশত নামাজের শেষ সময়, বয়স ছিল ৬৩, ওফাতের স্থান আয়েশা (রা.)-এর হুজরা—তাঁর কোল।

এ ছাড়া রাসুল (সা.)-এর জীবনে ১২ সংখ্যা নানাভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৬২১ খ্রিস্টাব্দ নবুয়তের ১২তম বছর। এ বছর রাসুল (সা.)-এর বয়স ছিল ৫২, তখন তাঁর ঐতিহাসিক মিরাজ অনুষ্ঠিত হয়। এটি রাসুল (সা.)-এর জীবনে একটি শ্রেষ্ঠ ঘটনা। এদিনই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়।

ইসলামের ইতিহাসে মিরাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যখন সব দিক থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মারাত্মক সংকট ও শোকের সম্মুখীন হয়েছিলেন, সেই দুঃসময়ে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে তাঁর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ দিয়েছিলেন। পার্থিব জীবনের অভিভাবক চাচা আবু তালেবের মৃত্যু, প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনিন খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল, তায়েফের হৃদয়বিদারক ঘটনা, মক্কার কাফিরদের অমানবিক আচরণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন বিপন্ন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সে সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সুযোগ করে দিয়ে তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়।

মূলত মিরাজের পর থেকেই হিজরতের প্রস্তুতি শুরু হয়। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

হিজরতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাসুল (সা.) আকাবা নামক স্থানে দুইবার মদিনার মুসলমানদের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতার শপথ নেন। শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) অঙ্গীকারবদ্ধ লোকদের মধ্য থেকে ১২ জন নেতা নির্বাচন করেন। সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচিত ব্যক্তিরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন এবং নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে অঙ্গীকারের ধারাসমূহ বাস্তবায়নের ব্যাপারে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ৯ জন খাজরাজ ও তিনজন আউস গোত্র থেকে মোট ১২ জন নেতা নির্বাচন করা হয়। খাজরাজ গোত্রের নেতাদের নাম যথাক্রমে—

১. আসআদ বিন জুরারাহ বিন আদাস ২. সাদ বিন রাবিআহ বিন আমর ৩. আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহাহ বিন সালাবাহ ৪. রাফি বিন মালিক বিন আজলান ৫. বারা বিন মারুর বিন সাখর ৬. আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হারাম ৭. উবাদা বিন সামিত বিন কায়স ৮. সাদ বিন উবাদাহ বিন অইম ৯. মুনজির বিন আমর বিন খুনাইস।

আউস গোত্রের নেতারা হলেন—১. উসাইদ বিন হুজাইর বিন সামাক ২. সাদ বিন খায়সামা বিন হারিস ও ৩. রিফাআহ বিন আবদুল মুনজির বিন জুবাইর।

যখন এসব নেতার নির্বাচন পর্ব সমাপ্ত হয়, তখন নবী করিম (সা.) তাঁদের কাছে থেকে পুনরায় অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ঈসা (আ.)-এর পক্ষ যেভাবে হাওয়ারিদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেভাবে আজ থেকে আপনাদের ওপর নিজ নিজ সম্প্রদায়ের দায়িত্ব অর্পিত। (ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৪৪৩-৪৪৬)

অন্যদিকে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরত করা শুরু করেন। এটা ছিল ১ রবিউল আউয়াল। নবী (সা.) ১২ রবিউল আউয়াল মদিনার নিকটবর্তী কোবা নামক স্থানে পৌঁছান। সেখানে মদিনা অঞ্চলের প্রথম মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পথে বনু সালেমের মহল্লায় জুমার নামাজ আদায় করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটাই ছিল প্রথম জুমার নামাজ। যদিও জুমার আদেশ এসেছিল মক্কায় থাকতেই, কিন্তু সেখানে আদায় করা সম্ভব হয়নি। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজের সঙ্গেও ১২ সংখ্যাটি যুক্ত হয়েছে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, রাসুল (সা.)-এর মদিনার জীবনে একবার ১২ জন সাহাবি নিয়ে জামাতে নামাজ আদায়ের ঘটনা ঘটে। জাবের (রা.) বলেন, একবার আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করছিলাম। তখন সিরিয়া থেকে একটি ব্যবসায়ী কাফেলা খাদ্য নিয়ে আগমন করে। লোকজন সেদিকে চলে যায়, নবী (সা.)-এর সঙ্গে মাত্র ১২ জন থেকে গেলেন। (বুখারি, হাদিস : ২০৫৮)

এভাবেই রাসুল (সা.)-এর জীবনে ১২ সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ধরনের আরো সংবাদ